বিদেশ

ক্রান্তিকালের মহামন্ত্র : কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী……

….অতঃপর কবি এসে 
জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুণ ঝলকে
তরীতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা,
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা..
কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে
কবি শোনালেন তাঁর
অমর কবিতাখানি–
এবারের সংগ্রাম—স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠≠

এ বারের সংগ্রাম— স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতাকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি ইউনেস্কোর । ইতিহাস বলে, শেখ মুজিবুর রহমানের এই ১৭ মিনিটের জ্বালাময়ী বক্তৃতা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সর্বস্ব পণ করে স্বাধীনতার লড়াইয়ে নামার প্রেরণা জোগায়। বাঙালির হাজার বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথ-পরিক্রমার অনিবার্য গন্তব্য যখন মুক্তিযুদ্ধের দিকে প্রচন্ডবেগে ধাবমান, সেদিনের সেই অগ্নিগর্ভ সময়ে ৭ই মার্চের ভাষণটি জাতিকে কীভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলেছিল তা নির্মলেন্দু গুণের উদ্ধৃত কবিতায় এক অপূর্ব কাব্যময়তায় যেভাবে ব্যঙময় হয়ে উঠেছে, তারপরে আর কিছু লেখার বোধকরি প্রয়োজন পড়ে না আজ!তারপরেও বলি :

  " ইতিহাসের বুকের ওপর
    হাজার বছরের পুরোনো একটা
    পাথর ছিল।
    সেই পাথর ভেঙে ভেঙে
    আমরা ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা,
  এই ইতিহাসটুকু আজও লেখা হয়নি।"

(ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব-ঐতিহ্যের অতুলনীয় স্মারক — ৭ই মার্চের ভাষণ ও জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি)

NB

Leave a Reply