রাজনীতি রাজ্য

তৃণমূল সরকার মাওবাদী সরকার : ভারতী ঘোষ

নজরে বাংলা, পশ্চিম মেদিনীপুর : তৃণমূল সরকার মাওবাদী সরকার, আমরা যেভাবে মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলা করেছি সেভাবেই তৃণমূল সরকারকেও মোকাবিলা করব। এমনই দাবি ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের। রবিবাসরীয় প্রচারে নেমে কেশপুরে দাঁড়িয়ে দলের রাজ্য সভাপতিকে পাশে বসিয়ে তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এ জেলার প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ। একদা সিপিএমের গড় এই কেশপুরকে গত লোকসভা নির্বাচনে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেই কেশপুরকেই নিজেদের আয়ত্তে আনার লক্ষ্যে বিজেপি শিবির। ঘাটাল লোকসভা নির্বাচনে কেশপুর বড় ফ্যাক্টর, একটাই কেশপুর পাখির চোখ করে রবিবাসরীয় প্রচারে রোড শো করলেন বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল শিবির বরাবরই দাবি করেছে, কেশপুর তাদের শক্ত ঘাঁটি। এই ঘাটিতে পদ্ম ফোটে কিনা সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন।

শনিবার এই লোকসভা কেন্দ্রের খড়গপুর গ্রামীণের বসন্তপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচার

অন্যদিকে, গত শনিবার এই লোকসভা কেন্দ্রের খড়গপুর গ্রামীণের বসন্তপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচার করছিলেন। প্রচারের ফাঁকে তিনি তৃণমূল নেতাদের হাটে হাঁড়ি ভাঙার হুমকি দিলেন ঘাটাল লোকসভার বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে দাসপুর সোনা প্রতারণা মামলায় সিআইডি চার্জশিট পেশ করেছে আদালতে। ভোটের সময় স্বাক্ষ্য ও অভিযোগ কারী কে হুমকি দিচ্ছেন । রাজ্য সরকার তাই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে তিনি যাতে পশ্চিম মেদিনীপুরে ঢুকতে না পারে। ১৫ এপ্রিল সেই মামলার শুনানী রয়েছে।

তার আগে শনিবার সকালে প্রচারে বার হন । প্রচারের ফাঁকে তিনি বলেন, আমি আগে দাগমুক্ত হয়েছি এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। আমি এখন রাস্তায় নেমে এসেছি। সবথেকে বড় আদালত মানুষের আদালত। যারা অন্যায় করে , চুরি করে তারা ভয় পায়। আমি কোনো অন্যায় করিনি। তাই কাউকে ভয় করবো না।সব তৃণমূল নেতার কেচ্ছা আমি জানি। এবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব। প্রথমে আমার গাড়ি ভাঙা হলো। এরপর এজেন্টকে মারধর করা হলো । এতেও না দমাতে পারায় এখন সুপ্রিমকোর্টের কাছে গেছে আমাকে আটকাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কে দুর্নীতি গ্রস্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যিনি নারদা, সারদা কেলেঙ্কারীতে জড়িত তাঁদের এমএলএ, এমপি হওয়ার টিকিট দেন, দুর্নীতি আড়াল করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। এখন টেট কেলেঙ্কারি, মাধ্যমিক প্রশ্ন ফাঁস , দাঁড়িভিটের মতো ঘটনা ঘটেছে।এসবের জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
এসপি থাকাকালীন তিনি যে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি তা সাফ জানিয়ে বলেন, অবৈধ বালি খাদান বন্ধ করে দিয়েছি। গরু পাচার বন্ধ করে দিয়েছি। নির্বাচনে গোলমাল পাকাতে জলপাই পোশাক পরা ৪০০ জন তৃণমূল কর্মী এলাকায় এলকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে সব খবর আছে। কার নেতৃত্বে এসব হচ্ছে, কোন দর্জির দোকানে এই পোশাক কাটা হচ্ছে সব জানি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পোশাক তুলে দেব, তৃণমূলের লোকদেরও তুলে দেব।।রাজ্য সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বা তাঁকে আটকাতে যত চেষ্টাই করুক তিনি যে দমবার পাত্রী নন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে জেলার তৃণমূল নেতারা।

NB

Leave a Reply