নাটক বিনোদন

থিয়েটারের কঠিন সন্ধিক্ষণে ‘গোবরডাঙ্গা রঙ্গ মহোৎসব’ পালন

স্বপন কুমার দাস : থিয়েটারের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ‘রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা’ প্রতি বছরের মতো এবারও তাদের নাট্যোত্সবের আয়োজনে এগিয়ে এসেছে। ‘গোবরডাঙ্গা রঙ্গ মহোত্সব’ এবার ১৩তম বর্ষে পড়ল। গত ২৭ মার্চ গোবরডাঙ্গা পৌরসভার পৌরপ্রধান সুভাষ দত্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে এই উত্সবের সূচনা করেন। ওই দিন উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার দুই কাউন্সিলর সঞ্জয় মন্ডল এবং বিশ্বনাথ বিশ্বাস। এছাড়াও ইজেডসিসি শান্তিনিকেতন সৃজনীর সাংস্কৃতিক আধিকারিক সমীর মিত্র। উদ্বোধনী দিনে পরিবেশিত হয় পিনাকী গুহ নির্দেশিত চেতলা কৃষ্টি সংসদ-এর নাটক ‘বিশ্বাস ও অবিশ্বাস’, আশিস পাল নির্দেশিত গোবরডাঙা রূপান্তরের ‘আলোয় ফেরা’, বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য্য নির্দেশিত গোবরডাঙ্গা রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা-র প্রযোজনায় ‘আমি’।

রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা গোবরডাঙ্গা-র নির্দেশক বিশ্বনাথ ভট্ট্যাচার্য্য

প্রতিদিনের মতোই দ্বিতীয় দিনে তিনটি নাটক অশোকনগর নাট্যমুখ-এর নাটক ‘কন্যা তোর’, গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম প্রযোজিত মুকুন্দ চক্রবর্তী নির্দেশিত নাটক ‘মিলনবিনা’ এবং রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা গোবরডাঙ্গা-র প্রযোজনায় বিশ্বনাথ ভট্ট্যাচার্য্য নির্দেশিত নাটক ‘ধনপতি উপাখ্যান’।

অশোকনগর নাট্যমুখ-এর নাটক ‘কন্যা তোর’-এর কলাকুশলীরা। এদিন ছিল তাঁদের ৫৫তম মঞ্চ প্রদর্শন। একজন গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর মধ্যে সন্দেহ-অবনিবনা এবং পরিশেষে বিয়োগাত্মক পরিণতি। দৈনন্দিন জীবনের বর্তমান কালের এক বাস্তবতার প্রতিফলন নাটকের প্রতি ক্ষণে ক্ষণে। নির্দেশক অভি চক্রবর্তীর মুন্সীয়ানায় তা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। তাঁর সাঁধু চরিত্রে সুপ্ত কামনার বহি:প্রকাশ শিল্পের ছোঁয়ায় আরও বেশি করে ফুটে উঠবে এই আশা রাখি। পরেশ (প্রবীর আদিত্য) একজন বিখ্যাত আইনজীবী সবসময়ই তাঁর নববধূ গৌরী (ইন্দুপিতা সিনহা)-কে সন্দেহ করে। দিনের পর দিন সেই সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলে। গৌরী কিছুই বুঝতে পারে না কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবে। ঘটনাচক্রে গৌরী গিয়ে পড়ে এক সাধুবাবা পরমানন্দ (অভি চক্রবর্তী)-র কাছে। গৌরীর ওপর পরমানন্দের কামনা-বাসনার কথা জানতে পেরে পরেশ সহ্য করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। গৌরী কি এখন সাধুবাবার কামনা-বাসনার সাগরে ভেলা ভাসাবে? নাটকের শেষ দৃশ্যেই তার উত্তর মেলে। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিবারণ (অরূপ গোস্বামী), অভয় ( অসীম দাস), বিপিন (সেখ আরিফ হোসেন), সহিস (অভিষেক), মালি (অদ্রিশ কুমার রায়), ফোলি (ঝুমুর ঘোষ), সত্যানন্দ (জয় চক্রবর্তী), মোতিয়া (দীপ্তোসি সাহা)।
গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম প্রযোজিত মুকুন্দ চক্রবর্তী নির্দেশিত নাটক ‘মিলনবিনা’ -এর কলাকুশলীরা
গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম প্রযোজিত মুকুন্দ চক্রবর্তী নির্দেশিত নাটক ‘মিলনবিনা’ -এর একটি দৃশ্যে স্বর্ণলতা (দেব‌স্মিতা চক্রবর্তী) ও গগন (কানাই সাহা)। নাটক, যাত্রাশিল্প যে শুধুমাত্র মনের খোরাক জোগানোর জন্য নয়। এক শ্রেণীর লোভী মানুষ এরই মাধ্যমে তাদের বিকৃত রুচির চাহিদা মেটানোর জন্য পয়সার জোগান দিয়ে যায়। কিন্ত একসময় যারা তাদেরকে সাহায্য করেছিল, ভুল বুঝে আবার তারা মূলস্রোতে ফিরে আসে। এই শিল্প যে ঠুনকো নয়, এই শিল্প দাঁড়িয়ে আছে শুধুমাত্র মনের ওপরই। টাকা সেখানে নিমিত্ত মাত্র। মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখনী সেই কথাই জানান দেয়; নাবিক নাট্যম-এর প্রত্যেক অভিনেতারা তাঁদের শিল্পসত্ত্বার পারদর্শিতায় সেই নাটকেরই মহিমা তুলে ধরেছেন নিজ নিজ চরিত্রের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে বলতেই হবে স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অবলীলাক্রমে স্বর্ণলতা ও গগন চরিত্রের মধ্যে একেবারে ঢুকে পড়েছিলেন তা দর্শক ও শ্রোতাদের অভিব্যক্তির বহি:প্রকাশই বুঝিয়ে দিচ্ছিল। হয়তো দর্শক নিজেদেরকে খুঁজে পাচ্ছিলেন এই চরিত্রগুলির মধ্যে দেবস্মিতা চক্রবর্তী ও কানাই সাহার অভিনয়ের মাধ্যমে। নাটকের সার্থকতা সেখানেই। অন্যান্য চরিত্রে অবিন দত্ত, প্রদীপ সাধুখাঁ-র অভিনয়ও প্রশংসার দাবি রাখে।
রবীন্দ্র নাট্য সংস্থা গোবরডাঙ্গা-র প্রযোজনায় বিশ্বনাথ ভট্ট্যাচার্য্য নির্দেশিত নাটক ‘ধনপতি উপাখ্যান’

তৃতীয় দিনেও ছিল তিনটি নাটক। ইলোরা নাট্য দলের ‘হৃদয়পুর কতদূর’, থিয়েটার ওয়ার্কার্স রেপার্টরী-র নাটক ‘জ্বালা’ এবং সর্বশেষ নাটক ‘রাজার খোঁজে’- প্রযোজনা গোবরডাঙ্গা রঙ্গভূমি। এছাড়া মুক্তমঞ্চে বীরভূমের সিউড়ী রঙ্গসাথী-র নাটক ‘ডেথ অফ ওয়ানস্ হোপ’ এবং হাওড়ার অভিনেয়-র নাটক ‘বারো ঘর এক উঠান’। এর পাশাপাশি ছিল থিয়েটার আড্ডা, সেমিনার, পত্রিকা স্টল এবং বাউল গানের আসর। এবারের নাট্যমেলায় পূর্ণাঙ্গ নাটক, নাটক, একাঙ্ক নাটক, মুক্তমঞ্চে নাটক, অন্তরঙ্গ নাটক এবং শিশু নাটক সহ মোট ১৯টি নাটক পরিবেশিত হয়। দর্শক এবং শ্রোতামন্ডলীর বিশেষ আগ্রহ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের দিনগুলি হয়ে উঠেছিল সমস্ত যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে এক অনন্য নজির। সেই দিক থেকে বিশ্বনাথ ভট্ট্যাচার্য্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বছরের পর বছর অনুষ্ঠানের বহরের শ্রীবৃদ্ধি থিয়েটারকে বাঁচিয়ে নিয়ে যাওয়ার রসদ যোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নজরে বাংলা
NAJORE BANGLA, founded over 5 years ago, consists of a growing population of professional business people, health-care providers, students, homemakers, labourers and entrepreneurs dedicated to the education and self enhancement for our youth and community. NAJORE BANGLA is a well known Bengali News and Entertainment Web Portal which has a wide-range readers throughout in all districts of West Bengal, Tripura, Assam and specially in Bangladesh. We have renowned journalists state-wide and in abroad are servicing through their profession. We promote positive lifestyles, focusing on children and families. Please send your feedback to najorebangladesk@gmail.com.
http://najore-bangla.com

Leave a Reply