দেশ বিদেশ সংস্কৃতি

আজ থেকে শুরু হচ্ছে “বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন” ও “আন্তরিক”- এর যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

স্বপন কুমার দাস

“তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তারে চিরসমুজ্জ্বল…”

রোগশয্যায় মুখে মুখে লাইনগুলো বলে গিয়েছিলেন তিনি। লিখে নিয়েছিলেন কন্যাসমা রানি চন্দ। তখনও কেউ ভাবেননি, আর কখনও তিনি কলম ধরে লিখবেন না। অমৃতলোকে যাত্রার আগে এই তাঁর শেষ কবিতা—-

”তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী।”

আশি বছর পূর্ণ হতে চলল, রবিঠাকুর নেই। সত্যিই কি নেই?

জীবন এগিয়ে চলে, আর জীবনের হাসিখেলা থেকে বিদায় নেওয়া প্রিয়জন তারা হয়ে রয়ে যান। ওই কোটি তারার মাঝেই একটি জীবনের ধ্রুবতারা আছে। তাঁর নাম রবীন্দ্রনাথ। অন্তরের পথ দেখানো সেই জ্যোতিষ্কটি তিনিই।

বাদল দিনে যখন প্রথম কদম ফুল ফুটে ওঠে, তখন আকাশ জুড়ে তাঁরই নাম বাজে। শুকনো গাঙে জীবনের বন্যা তাঁরই জয়গান গেয়ে ওঠে, খেলাঘর বাঁধতে লেগে মনে পড়ে তাঁর কথা, আবার বিপদকে ভয় না-করার বাণীটিও তাঁরই দেওয়া। শিশুর দেখা এক পায়ে দাঁড়ানো তালগাছ, বাংলার মাটি-জল-বায়ু-ফল, কালো কাজল মেঘ, কিনু গোয়ালার গলির বাঁশি কিংবা সন্ধ্যাসঙ্গীতটি চিনতে শিখিয়েছেন তিনিই। ছেয়ে রয়েছেন জীবন জুড়ে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে।

তাই বাইশে শ্রাবণ তাঁর মহাপ্রয়াণের বার্ষিকী হলেও দিনটা হয়ে উঠুক তাঁর মহাজীবনের উদযাপন। নব প্রজন্মের সঙ্গে তাঁর সেতুবন্ধনের দিন হয়ে উঠুক, যে ভাষার মাথায় তিনি পরালেন সম্ভ্রমের শিরোপা, সেই বাংলাকে বাঁচানোর দিন হয়ে উঠুক। এই তিন অঙ্গীকারেই বাইশে শ্রাবণে বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গনের নিবেদন— ‘ভুবনজোড়া আসনখানি’।

ভুবনজোড়াই তো! দুই বাংলার বাঙালিদের প্রযুক্তির সুতোয় বেঁধে নিয়ে গত পঁচিশে বৈশাখ থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ চলেছিল আমাদের ‘রবীন্দ্র জয়ন্তী’। এ বার বাইশে শ্রাবণে আরও ব্যাপ্ত সেই পরিধি। নিমতলা মহাশ্মশানে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা অর্পণে যার সূচনা। তারপর জোড়াসাঁকো হয়ে রবীন্দ্রভারতী এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছব আমরা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা তো বটেই, অসম, ত্রিপুরা, শিলচর, জামশেদপুর, রাঁচি ও অন্যান্য রবীন্দ্র অনুরাগী ও শিল্পীরাও ‘আকাশ বেয়ে’ আজকের দিনে এসেছেন আমাদের অঙ্গনে। দেশভাগ হলেও রবীন্দ্রনাথ তো ভাগ হননি। তাই সীমান্ত পেরিয়ে আবার হাত ধরেছেন বাংলাদেশের শিল্পীরা। অতলান্তিকের ও-পার থেকে ব্রিটেন ও আমেরিকার শিল্পীরাও অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁদের ডালি নিয়ে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটির একটি বড় অংশই সরাসরি সম্প্রচার করেছি আমরা। অতিমারির দুঃসময়ে পারস্পরিক দূরত্বের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই নিবেদন। বিপদের দিনে প্রাণের ঠাকুরের আশ্রয় এসে এ হয়তো এক অর্থে আমাদের শান্তি-সন্ধানের প্রয়াসও। যেখানে কথা আছে, গান আছে, প্রাণ আছে, সুখ আছে।

এবং ‘তিনি’ আছেন। “তুমি মহারাজা। ভয় যায় তব নামে…।”

আজ সন্ধ্যা ছ’টা থেকে শুরু হচ্ছে “বাগুইআটি নৃত্যাঙ্গন” “আন্তরিক”– এর যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা কবির চোখে বর্ষা। অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তিরএক সপ্তাহব্যাপী এই সংস্কৃতিক সন্ধ্যার প্রত্যেক পরতে পরতে থাকবে ভুবনজোড়া খ্যাত-অখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, নৃত্যশিল্পী ও সংগীতজ্ঞদের কলা প্রদর্শন। আপনাদের সার্বিক উপস্থিতি ও আন্তরিক ভালোবাসা হয়ে উঠবে সন্ধ্যার হার্দিক মিলনক্ষেত্র। মিডিয়া পার্টনার নজরে বাংলা। নজর রাখুন www.najore-bangla.com-এ।

নজরে বাংলা
NAJORE BANGLA, founded over 5 years ago, consists of a growing population of professional business people, health-care providers, students, homemakers, labourers and entrepreneurs dedicated to the education and self enhancement for our youth and community. NAJORE BANGLA is a well known Bengali News and Entertainment Web Portal which has a wide-range readers throughout in all districts of West Bengal, Tripura, Assam and specially in Bangladesh. We have renowned journalists state-wide and in abroad are servicing through their profession. We promote positive lifestyles, focusing on children and families. Please send your feedback to najorebangladesk@gmail.com.
http://najore-bangla.com

Leave a Reply