উত্তর ২৪ পরগনা রাজনীতি রাজ্য

রাজ্যে চলছে জমিদারি শাসন ব্যবস্থা : অভিমত জেলা ওবিসি মোর্চার সভাপতি নীলরতন মিত্রের

গাইঘাটা, উত্তর 24 পরগনা : এই রাজ্যের বর্তমান সরকারের কোনও মন্ত্রীর সাধ্য নেই নিজের থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখানে একটাই পোস্ট বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। এখানে না আছে আইনের শাসন, না আছে বিচার ব্যবস্থা। এখানে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার খেলায় নেমেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। চলছে জমিদারি শাসন ব্যবস্থা। আমরা চেয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হোক জনগণের সরকার। কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা পেলাম এক স্বৈরাচারী, জমিদারি শাসনব্যবস্থা। এখানে ব্যানার্জি পরিবারের শাসন ব্যবস্থা চলছে। যেখানে আমলা থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রীর কথাই শোনা হয় না। শিক্ষামন্ত্রী নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। টেট, স্কুল-কলেজের পরীক্ষা কবে থেকে চালু হবে তার কোনো দিশা দেখাতে পারছেন না শিক্ষামন্ত্রী। ধন্দে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল ভেঙে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সব দপ্তর নিজের হাতে রেখেছেন। সব বিশেষজ্ঞরা যেখানে বলেছিলেন করোনা মোকাবিলায় একমাত্র উপায় হল লকডাউন। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন মন্তব্য সহ প্রথমদিকে লকডাউনকে সেভাবে কঠোর ভাবে কার্যকর করেনি রাজ্য সরকার। ফলস্বরূপ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজ্যের হাতের বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে, দুর্গাপূজায় বিভিন্ন ক্লাবগুলোকে অনুদান দিয়ে ভোটের রাজনীতি করছে রাজ্য সরকার। যেন মনে হচ্ছে খয়রাতি দিচ্ছে। আসলে বাংলার মানুষকে অপমান করা হচ্ছে। বাংলার যুবকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। চাষীদের মুনাফা বেশি মাত্রায় দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার যে কৃষক বিল পাশ করিয়েছে তার প্রতিবাদের ফলে চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাঁদেরকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। বুধবার চাঁদপাড়া পশ্চিম মন্ডলের এক কৃষক সুরক্ষা পদযাত্রার শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন কথাই বললেন বারাসাত সাংগঠনিক জেলার বিজেপি ওবিসি মোর্চার সভাপতি নীলরতন মিত্র।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এক সমীক্ষা অনুযায়ী– পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন 47 শতাংশ উত্তর 24 পরগনায় 52%। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী 27% সংরক্ষণ ওবিসি সম্প্রদায়ের থাকলেও এই রাজ্যের সরকার তাদের খামখেয়ালিপনার জন্য 17% ওবিসি সম্প্রদায়ের জন্য রেখে বাকি 10% এক বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ করেছে। আসলে সাম্প্রদায়িক তাস খেলে ধর্মীয় বিভাজন মুখ্যমন্ত্রী তিনি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছেন। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টি অখন্ড হিন্দু জাতি দেখতে চায়। আগামী দিনে আমাদের দলের নির্বাচনী ইস্তহারে এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই স্বেচ্ছাচারিতা, ধর্মীয় ভেদাভেদ দেখতে চান না। তাঁরা চাইছেন জনগণের সরকার। বিকল্প শাসন ব্যবস্থা। সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে রাজ্যে।
গাইঘাটা বিধানসভা কৃষি সুরক্ষা পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শংকর চ্যাটার্জী, সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রকান্ত দাস, ওবিসি মোর্চার সভাপতি নীলরতন মিত্র সহ সকল মন্ডল সভাপতি।

Leave a Reply