করোনা ১৯

আংশিক লকডাউনে রাজ্যে সর্বত্র বনধের চেহারা

নজরে বাংলা: রাজ্য সরকার আংশিক লকডাউন জারি করেছে গতকাল। ঘোষণার পরমুহূর্তেই মছলন্দপুর তদন্ত কেন্দ্র তৎপর। শুরু হলো মাইকিং। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সতর্কতা মূলক যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে তার প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ন’টা থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল সাতটা থেকে দশটা এবং বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটা অবধি বাজার খোলা থাকবে। ডিএম অ্যাক্ট, ২০০৫ ও আইসিসি অনুযায়ী এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সরকারী নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
ভোট শেষ হতেই করোনা সংক্রমণ রুখতে তৎপর রাজ্য প্রশাসন। পুরোদস্তুর লকডাউন জারি না হলেও মুখ্যসচিবের জারি করা এই নির্দেশিকায় সংস্কৃতি, বিনোদন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য সমস্ত সিনেমা হল, শমিং মল, বিউটি পার্লার, রেস্তরাঁ, বার, ক্রীড়াঙ্গন, জিম, স্পা এবং সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওষুধ বা মুদির দোকান খোলা থাকলেও অন্যান্য দোকানপাট এবং বাজার-হাট সকালে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেলে ৩টে থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। যদিও ওষুধের দোকান এবং মুদির দোকানের মতো জরুরি পরিষেবা এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকছে। হোম ডেলিভারি এবং অনলাইন পরিষেবায় অনুমোদন রয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং বিনোদনমূলক সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।করোনা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে এই সব বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। যার অন্যথা হলে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

একই সঙ্গে এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে ভোট গণনার দিন নির্বাচন কমিশন যে সব গাইডলাইন দিয়েছে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনও জমায়েত চলবে না, বিজয় মিছিল চলবে না, বিজয় উৎসব চলবে না। তবে এটিএম, ব্যাঙ্ক, আদালত, সরকারি ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। তবে সরকারি অফিসে এখন যেমন ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ হচ্ছে তেমনি বেসরকারি ক্ষেত্রেও যতটা সম্ভব কম কর্মী নিয়ে কাজ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টার পরে এই জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা, তদন্ত কেন্দ্রের অধীন এলাকায় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে লকডাউন অমান্যকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়। এছাড়া কেহ মাস্কবিহীন অবস্থায় রয়েছেন কিনা তাও দেখা হচ্ছে। তবে মোটের উপর হাবড়া, অশোকনগর, মছলন্দপুর এলাকার বিভিন্ন বাজার এবং দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় এলাকা বনধের চেহারা নেয়।
অধিকাংশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লকডাউন খুবই জরুরি। তবে রাজ্যে নির্বাচনী কার্যকলাপ ও জনসমাগমের শিথিলতার কারণে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের অভিমত। অনেক ব্যবসায়ীদের মতে, রাজ্য সরকারের যে নির্দেশিকা ঘোষিত হয়েছে সেখানে সময়ের নির্দিষ্টতা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সকালের দিকে লকডাউন শুরুর সময় সাতটা না করে অনেকে আরও পরে হলে ভালো হতো বলে মনে করছেন। কারণ সকালের দিকে অনেকেরই ঘুম ভাঙতে দেরি হয়। তাই ব্যবসা করতে খুব কম সময়ই পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের আবার অভিমত, ব্যবসা করার সময়সীমা একসঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা করে তারপর লকডাউন বিধি চালু হলে সকলেরই সুবিধা হতো।

নজরে বাংলা
NAJORE BANGLA, founded over 5 years ago, consists of a growing population of professional business people, health-care providers, students, homemakers, labourers and entrepreneurs dedicated to the education and self enhancement for our youth and community. NAJORE BANGLA is a well known Bengali News and Entertainment Web Portal which has a wide-range readers throughout in all districts of West Bengal, Tripura, Assam and specially in Bangladesh. We have renowned journalists state-wide and in abroad are servicing through their profession. We promote positive lifestyles, focusing on children and families. Please send your feedback to najorebangladesk@gmail.com.
http://najore-bangla.com

Leave a Reply