দেশ বিদেশ

ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনার ঊষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ অভ্যর্থনার জন্য  আমি  কৃতজ্ঞতা জানাই। শুধুমাত্র আমাকে নয়, আমার প্রতিনিধিদলের সদস্যদেরও আপনারা ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।   

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, ২০১৬ সালে এমনকি তারও আগে ২০১৪’তে আপনার সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ হয়। সেই সময় আপনি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেছিলেন। তখন বিস্তারিতভাবে যে পরিকল্পনার কথা আপনি জানিয়েছিলেন, তা ছিল যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। আর আজ রাষ্ট্রপতি হিসাবে আপনি সেই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে সবরকমের উদ্যোগ নিয়েছেন – আমি তাকে স্বাগত জানাই। 

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, ভারতে বাইডেন পদবী যাঁদের আছে, তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন। আপনি এই বিষয়টি এর আগেও আমাকে বলেছিলেন। আমি এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রের খোঁজ করেছি। আজ সেরকম কিছু কাগজও নিয়ে এসেছি। হতে পারে, এর মধ্যে থেকে কিছু জরুরি তথ্য আপনার কাজে লাগবে।

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজ এই শীর্ষ সম্মেলনে আমাদের যে আলোচনা হয়েছে, তা একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক, তৃতীয় দশকের প্রথম বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব গোটা দশক জুড়ে অনুভূত হবে। আপনার নেতৃত্বে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের যে বীজ বপণ করা হ’ল, তা ক্রমশ পল্লবিত হবে এবং পৃথিবীর সমস্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি। এর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আর তাই যখন আমি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এই পরিবর্তনশীল অধ্যায়টি প্রত্যক্ষ করছি, আমি যখন ঐতিহ্যের কথা বলছি, আমরা যখন গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করছি – যেগুলির প্রতি আমরা উভয় দেশই দায়বদ্ধ, সেই সময় এই নিয়ম-নীতিগুলিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধি করতে হবে।  

একইভাবে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি আপনি একটু আগে বলেছেন, আমেরিকার উন্নয়নে ৪০ লক্ষ ভারতীয় আমেরিকানের ভূমিকার কথা। যখন আমি এই দশকের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করি, তখন এইসব মেধাবী ভারতীয় আমেরিকনদের ভূমিকার কথাও আমাদের স্মরণে রাখতে হয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ এবং ভারতীয় মেধা এই সম্পর্কের অংশীদার। এই কাজে আপনার গুরুত্বপূর্ণ অবদানটিও ভুলবার নয়। 

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, একইভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসাবে আজ প্রযুক্তিকে বিবেচনা করা হয়। মানবজাতির কল্যাণে এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে, বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। 

একইভাবে মাননীয় রাষ্ট্রপতি, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসলে আমাদের দু’দেশের জন্য এটি পরিপূরক। এই দশকে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। 

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনি দোসরা অক্টোবরের কথা উল্লেখ করলেন। আমরা মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী যখন উদযাপন করবো, তখন এই গ্রহ সম্পর্কে যে দায়িত্বের কথা গান্ধীজী বলেছিলেন, সেটি স্মরণে রাখবো। এই প্রেক্ষিতে বর্তমান দশকে দায়িত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে এই গ্রহের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাদের  ভুলে গেলে চলবে না। সারা বিশ্ব জুড়ে এই দায়িত্ববোধ আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা বিশ্বের জন্য, বিশ্বের প্রতিটি নাগরিকের জন্য  মঙ্গলজনক হয়ে উঠবে। 

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আপনার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। কোভিড-১৯, জলবায়ু পরিবর্তন অথবা কোয়াড – প্রতিটি বিষয়েই আপনি নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আপনার পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ এগুলি নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনার সুযোগ আমাদের হয়েছে। এখন নিজ নিজ দেশে অথবা সারা পৃথিবীর জন্য কিভাবে এগুলিকে কাজে লাগাতে হবে, তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। আমি নিশ্চিত আপনার নেতৃত্বে আমরা যাই করিনা কেন, সেটি সমগ্র বিশ্বের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হবে। 

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আরও একবার ঊষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমি আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। 

ধন্যবাদ!

নজরে বাংলা
NAJORE BANGLA, founded over 5 years ago, is a well known Bengali, Hindi & English News and Entertainment Web Portal which has a wide-range readers throughout India, all districts of West Bengal, Tripura, Assam and specially in Bangladesh. We have renowned journalists country-wide and in abroad are servicing through their profession. Please send your feedback to najorebangladesk@gmail.com.
http://najore-bangla.com

Leave a Reply